Book Cover-01

কৃষক হবে কোটিপতি

কৃষি ও কৃষকের দিন বদলের ফর্মুলা

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দারিদ্র্য এবং শহরমুখী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অভিবাসনের একটি অন্যতম কারণ ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ব্যর্থতা। কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়না বলে একসময় সে বাধ্য হয়ে কৃষি পেশা ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমায় শহরে। অথচ সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে যদি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যেত, তাহলে আমাদের কৃষকরা আর অন্য সকল উদ্যোক্তাদের মত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতেন এবং আমাদের গ্রামগুলি হয়ে উঠত উন্নয়নের এক একটি কেন্দ্র। কিন্তু তা হয়নি। লেখক তার দীর্ঘদিনের গবেষণার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি পথ বাতলে দিয়েছেন এই বইয়ে। তার প্রস্তাবিত মডেল বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং সেইসাথে কৃষকরা হবেন সমাজের সবচেয়ে মর্যাদাবান শ্রেণি।

স্বপ্নকুঞ্জ

তমাল কৃষ্ণ মৃধা

নমস্কার। শুরুতেই আমার বয়োজ্যেষ্ঠদের চরণে সশ্রদ্ধ প্রণাম এবং সমবয়সী ও অনুজদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। আজ আমার লেখা কবিতাসমগ্র নিয়ে প্রকাশিত প্রথম ই-বুক “স্বপ্নকুঞ্জ” প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমেই বলতে চাই বইটির নাম “স্বপ্নকুঞ্জ” কেন?

প্রথমত এই নামটা আমার মা পছন্দ করে দিয়েছেন আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে প্রাসঙ্গিকতা । প্রত্যেক লেখকের জীবনে স্বপ্ন থাকে একদিন তার লেখা, দর্শন প্রকাশিত হবে সবার মাঝে, সহায়ক হয়ে উঠবে সমাজ বিকাশে। তিনি তার অভিজ্ঞতা, চিন্তা চেতনা প্রকাশ করবেন কবিতায়, ছন্দে, গল্পে অথবা প্রবন্ধে। প্রত্যেক লেখকই পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চান। কখনো হয়তোবা লেখক পাঠক হৃদয়ে স্থান পায়, কখনোবা ইচ্ছেটা অধরা থেকে যায়। দোলাচলে থাকার পরেও লেখক আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে, গল্প লেখে, আবার কবিতার ডালা ভরিয়ে তোলে নতুন ছন্দে এবং নিরন্তর প্রয়াস করে পাঠকের কাছে সেই ছন্দের ডালা ভরা উপহার পৌঁছে দিতে। কিন্তু শেষপর্যন্ত কজনেরই উপহার পাঠক সমাজে পৌঁছায়! হয়তো না বলা অনেক কথা গোপনেই থেকে যায়। সময়ের সাথে সাথে গোপনীয়তার প্রাচীর এতই দুর্ভেদ্য হয়ে পড়ে যে, তা ভেদ করে অপ্রকাশিত লেখাগুলো আর পাঠক অব্দি পৌঁছাতে পারে না। তাই সুযোগের অভাবে, সমাজের প্রভাবে সুপ্ত থাকা কথাগুলো গুপ্ত থেকেই হারিয়ে যায় সময়ের অতল গর্ভে।

সত্যি বলতে আমিও স্বপ্ন দেখতাম একদিন আমার লেখা গল্প, কবিতা পরিচিত হয়ে উঠবে পাঠক সমাজে। তবে স্বপ্ন দেখা আর তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্যে এক বিশাল অনিশ্চয়তা বিরাজমান। কিন্তু আজ সেই অনিশ্চয়তাকে বাস্তবতার রূপদানকারী আইএফডি পাবলিকেশনসের প্রতি আমি সবিনয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজ আইএফডি পাবলিকেশনসের প্রযোজনায় আমার প্রথম ই-বুক “স্বপ্নকুঞ্জ” প্রকাশিত হচ্ছে। এটা সত্যিই আমার কাছে এক স্বপ্নের মতো।

ছোটবেলা থেকেই আমার সাহিত্যচর্চায় একমাত্র অনুপ্রেরণা দানকারী হলেন আমার মা। তাঁর উৎসাহেই সাহিত্য সাধনার পথে আমার প্রথম যাত্রা শুরু হয়। তাই আমার জীবনের প্রথম প্রকাশিত ই-বুক “স্বপ্নকুঞ্জ” আমার মায়ের নামে উৎসর্গ করছি। এটি যেহেতু আমার সাহিত্য জীবনের প্রথম প্রকাশনা , তাই আমার সকল ভুল-ত্রুটির জন্য পাঠকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার পরবর্তী জীবনে সাহিত্য চর্চার জন্য সকল পাঠক এবং শুভাকাংখীর আশীর্বাদ ও ভালোবাসা একান্তই কাম্য।

কাব্যের ভাগ্যরেখা

ডাঃ মোজাম্মেল হক

আলহামদুলিল্লাহ্-সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ্ তাআলার জন্য

“কাব্যের ভাগ্যরেখা”- ই-বুকটি প্রকাশের জন্য আইএফডি  পাবলিকেশনসের প্রতি শুরুতেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আসলে কবিতা  মানে আমার কাছে মনে হয় নিজের মনের ভেতরের মানুষটার প্রতিচ্ছবি সাদা পাতায় কলমের আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা। কবিতা শব্দটির অর্থ অনেক ব্যাপক এবং সুগভীর বিধায় কখনো আমি দাবি করি না যে আমি যা লিখি, তা কবিতা। আমি ছন্দে কিবা ছন্দহীন লাইনে চেষ্টা করি নিজের কিছু  বক্তব্য তুলে ধরতে। সব লেখাই যে আবার নিজের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত  তাও নয়। তবে আশপাশের মানুষ, বর্তমান পরিস্থিতি (আর্থ সামাজিক, কিঞ্চিৎ রাজনৈতিক), প্রাকৃতিক পরিবেশ, আল্লাহ্ তাআলার দেয়া বিভিন্ন নিয়ামত ইত্যাদি নিয়ে লিখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চলতে ফিরতে লেখালেখি করতেই আমার বেশি ভালো লাগে। আজকে কিছু লিখবো এমন প্রস্তুতি নিলে আসলে ঐদিন কিছুই লেখা হয়ে ওঠেনা। আবার দেখা গেলো খুব কাজের চাপ, তার ফাঁকে ফাঁকেও একটা ভাব চলে এলো অমুক বিষয়ে লেখা যেতে পারে; ঠিক তখনই ঐ বিষয়টি নোট করে রেখে কাজ শেষ হতেই লেখা শুরু করে দেই দু চার লাইন। 

লেখালেখিটা একান্তই আমি নিজের ভালো লাগা হতে করি। লেখালেখি আমার পেশা নয়, তবে নেশার মতো। নিজের লেখার পাশাপাশি বড়দের লেখা পড়তেও খুব ভালোবাসি। ছোটবেলা হতেই গল্প, উপন্যাস আর কবিতা পড়ার প্রতি আমার খুব ঝোঁক ছিলো। খুব ছোটবেলায় যখন জসীমউদ্দীন কিংবা ফররুখ আহমদের লেখা পড়তাম, মনে হতো আহা যদি কোনরকম একটা কবিতা আমি লিখতে পারতাম! টুকটাক লেখালেখির পর বুঝলাম কবিতা লেখা আসলে আমার দ্বারা কখনোই সম্ভব নয়। তবুও কবিতার কাছাকাছি কিছু লেখার অপচেষ্টাই আমার এই “কাব্যের ভাগ্যরেখা”। আমি সবার দোয়াপ্রার্থী।

 ডাঃ মোজাম্মেল হক

 

রক্তের স্বাক্ষর

হাসান শাওন
ইতিহাস কেবল কালি দিয়ে লেখা হয় না, কখনও কখনও তা লিখতে হয় রক্ত, অশ্রু আর আত্মত্যাগ দিয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল বাংলাদেশের জন্য তেমনই এক রক্তে লেখা অধ্যায়। যখন অন্যায় ও বৈষম্য সব গ্রাস করে নিয়েছিল, তখন মুক্তির পথ তৈরি করতে সবার আগে এগিয়ে এসেছিল অকুতোভয় তরুণেরা, এরপর সর্বস্তরের জনতা।
 
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সফল বিপ্লব নয়, এটি এক নতুন প্রজন্মের জেগে ওঠার গল্প। শহীদ আবু সাঈদ, ইয়ামিন, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ নাম জানা ও না জানা অসংখ্য শহীদের রক্তে এই মাটি পবিত্র হয়েছে এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে। তাদের রক্তের স্বাক্ষরেই লেখা হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তির সনদ।
 
সেই শহীদ ও আহত বীরদের প্রতি আমাদের গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে অনেক কবিতা, গল্প, নাটক ও উপন্যাস রচনা করে তাদেরকে লেখনির মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ‘রক্তের স্বাক্ষর’ উপন্যাসটি লেখার চেষ্টা।
 
এটি কোনো শুষ্ক ইতিহাসের বই নয়, বরং সেই উত্তাল দিনগুলোতে একদল তরুণের চোখে দেখা এক জীবন্ত আখ্যান। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সাজিদ, খালিদ, আলি, কিংবা গল্পকথক ‘আমি’ —এরা কেবল কাল্পনিক কোনো চরিত্র নয়, বরং তারা সেই সময়ের হাজারো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরই প্রতিচ্ছবি। তাদের ভয়, আশা, ক্রোধ আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা সেই গণজাগরণের মুহূর্তগুলোকে অনুভব করতে পারব।
 
এই উপন্যাসটি সেই সকল বীর শহীদের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য, যারা নিজেদের জীবন দিয়ে আমাদের একটি নতুন সকাল উপহার দিয়েছেন। এটি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেবে, কত বড় আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। ‘রক্তের স্বাক্ষর’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি সেই শহীদদের নামে উৎসর্গীকৃত এক স্মৃতিস্তম্ভ, যাদের রক্তের স্বাক্ষরে লেখা হয়েছে এক নতুন বাংলাদেশের নাম।
 
 হাসান শাওন